লা লিগায় কাতালান ক্লাব বার্সেলোনার নতুন মৌসুমটা নেহাত মন্দ যাচ্ছিল না। ছয় ম্যাচের মধ্যে একটি হার ও একটি ড্র করে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে ছিল দলটি। আর সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে রবিবার রাতের ম্যাচে জয় পেলে তারা টেবিলের শীর্ষ স্থানে উঠে যেত। কিন্তু তেমনটা হয়নি। ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচটিতে হোঁচটই খেয়েছে বার্সা। গতবারের লা লিগা চ্যাম্পিয়ন বার্সাকে সেল্টা ভিগো ৪-৩ গোলে হারিয়েছে ম্যাচটিতে।

রবিবার সেল্টা ভিগোর মাঠে আতিথ্য নেয় বার্সা। তবে দলের আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি ইনজুরির কারণে গত তিন ম্যাচ ধরেই মাঠে অনুপস্থিত। তার পরিবর্তে এ ম্যাচে দলে জায়গা পেয়েছিলেন আরদা তুরান। মেসিহীন বার্সা গত দুই ম্যাচে জয় পেলেও ভিগোর মাঠে পরাজয়ের শিকার হয়েছে।

গত মৌসুমেও এই সেল্টা ভিগোর মাঠেই বড় ধাক্কা খেয়েছিল বার্সা। সেবার নেইমার, মেসি ও সুয়ারেজ সবাই খেললেও ৪-১ গোলে হেরেছিল স্প্যানিশ এই জায়ান্ট ক্লাবটি। ওই মৌসুমে সেটাই ছিল বার্সার সবচেয়ে বড় হার।
ম্যাচের শুরুতেই তুরানের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে লুইস সুয়ারেজের শটটি রুখে দেন ভিগোর গোলরক্ষক। এরপর বার্সার রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভিগো নিজেদের চমক দেখানো শুরু করে। ৩৩ মিনিটের মধ্যেই তিনবার বার্সার জালে বল পাঠায় স্বাগতিকরা।

২২তম মিনিটে গোল করে দলকে লিড এনে দেন পিয়োনে সিসতো। এরপর ৩১তম মিনিটে কর্নার থেকে দুরন্ত এক শটে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আসপাস। এর ঠিক দুই মিনিট পরেই নিজেদের জাল নিরাপদ করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন জেরোমি ম্যাথিউ। তার এই আত্মঘাতী গোলে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

বিরতির পর খেলায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বার্সার ফুটবলাররা। এরই ফলস্বরূপ ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে ইনিয়েস্তার বাড়ানো বলে দুরন্ত এক হেডে বল জালে জড়ান জেরার্দো পিকে। ৬ মিনিট পর পেনাল্টি থেকে ব্যবধান আরও কমান নেইমার। তবে ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে বার্সার আরও এক ভুলে স্বাগতিকরা ব্যবধান বাড়ায়।

জর্দি আলবার ব্যাকপাস বিপন্মুক্ত করতে গিয়ে টের স্টেগান শট মারেন এগিয়ে আসার হার্নান্দেসের দিকে। আর বলটি তার মাথায় লেগে জালে ঢুকে যায়। ফলে ব্যবধান ৪-২ এয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর সুয়ারেজের বাড়ানো বল থেকে আবারও হেড করে দলকে গোল পাইয়ে দেন পিকে। তবে বাকি সময়টুকুতে আর কোন গোল করতে না পারায় ৪-৩ ব্যবধানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বার্সাকে।

এই ম্যাচে হারের ফলে শীর্ষে যাওয়ার বদলে বার্সার আরও একধাপ অবনমন ঘটেছে। ১৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন চতুর্থ স্থানে রয়েছে। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ শীর্ষে এবং সমান পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।