আনোয়ার শাহজাহান :
গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমুড়া ইউনিয়নের ধারাবহর এলাকায় মুরগির খামার করে অনেক বেকার যুবকের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন ইটালী প্রবাসী শরিফ উদ্দিন। চাকরিতো দূরের কথা, লেখাপড়াই যাদের কাছে ছিল স্বপ্নের মতো তারাই আজ ঐ খামারে কাজ করে নিজের পরিবারের ভরন পোষন করছে।

শরিফ উদ্দিন

মুরগির খামারে ঝুঁকি কম থাকায় বর্তমানে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে লেয়ার, ব্রয়লার, সোনালীসহ বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক লক্ষ মুরগি পালন হচ্ছে। সেই সাথে দিনে দিনে খামারীর সংখ্যা বাড়ছে ও বেকারত্ব হ্রাস পাচ্ছে। উপজেলা প্রানি সম্পদ কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে যদি বেকার যুবকদেরকে বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ প্রদান করা হত তবে এ উপজেলায় আরো অনেক বেকার যুবক দারিদ্র্যের রোষানল থেকে বেরিয়ে এসে মুরগী খামারের দিকে আগ্রহী হত।

শরিফ উদ্দিন, জন্ম গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঘা গ্রামে। তিনি একজন আপাদমস্তক সমাজসেবী। অন্যকে কাজ করানোর এবং কাজে উদ্বুদ্ধ করার দারুন ক্ষমতা আছে তাঁর। বিত্তবান পরিবারে জন্ম হলেও তিনি নিজের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত। তাঁর কোনরকম অহমিকা নেই। সদালাপী, সদাহাস্য শরিফ উদ্দিন বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক সংস্থার সাথে জড়িত। তিনি গোলাপগঞ্জে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে ধারাবহরে ১২ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠা করেন দেশ পোলট্রি ফার্ম। এখানে বর্তমানে ৬ হাজারেরও উপর বিভিন্ন জাতের মুরগ রয়েছে। পাশাপাশি একটি ফিশারিজ ও একটি ডেইরী ফার্ম এর কাজ পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে।

দেশ পোলট্রি ফার্ম এলাকাতে ইটালিয়ান ফার্ম নামে সর্বাধিক পরিচিত। এই ফার্মের পুরো এলাকা জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন জাতের মিশ্র ফলজ বাগান। এর মধ্যে আম, লিচু, কলা, পেঁপে, নারকেল, কুল, পেয়ারা, আনারস, কমলাসহ অনেক জাতের ফলের গাছ। এখানে হরেক রকমের ফুলের মৌ মৌ সুবাস। উঁচু-নিচু পাহাড়ি ঢালুতে সারি সারি বৃক্ষরাজি। বনজের চেয়ে বেশিরভাগই ফলজ গাছ। দেশি পরিচিত ফল চারার পাশাপাশি রয়েছে বিদেশি জানা-অজানা নানা জাতের সুস্বাদু ফলের চারা।

গত ৭ আগস্ট শরফ উদ্দিনের দেশ ফার্মটি আমার বড় ভাই আনোয়ার আলমগীরকে নিয়ে দেখতে যাই। ফার্ম ও বাগানের পরিচর্যা দেখে এবং তরতাজা ফল খেয়ে আমি নিজেই মুগ্ধ। ঐ সময় ইতালী থেকে ফার্মের মালিক শরিফ উদ্দিন আমাদের ফোন করে গোঁজখবর নেন। ফার্মের পরিচালনায় রয়েছেন ধারাবহর এলাকার খালেদ আহমদ। তিনি আমাদের পুরো এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখান। অত্যন্ত পরিশ্রমী ও অভিজ্ঞ খালেদ ভাইয়ের সহযোগিতায় একদিন এই ফার্মটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পাবে সেটা জোর করে বলতে পারি।

রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ঢাকাদ‌ক্ষিণ বাইপাস রোড থেকে শরিফ উদ্দিনের দেশ পোলট্রি ফার্মে গাড়ি চলাচলের উপযোগী পাকা রাস্তা করা হলে স্থানীয় অনেকে এই লাভজনক ব্যবসা করতে আগ্রহী হবে এবং এতে তখন আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হবে এলাকার অনেক বেকার যুবক। দেশ পোলট্রি ফার্ম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যথেষ্ট ভূমিকা পালন করুক, শরিফ উদ্দিন ভাইয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হোক এই কামনা রইল।