দেশে প্রতিবছর স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন ১৪ হাজার ৮২২ জন নারী। এর মধ্যে মারা যায় ৭ হাজার ১৩৫ জন। ক্যানসার গবেষণার দায়িত্বপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার-এর সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

১০ অক্টোবর স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে অক্টোবর মাসব্যাপী ঢাকাসহ সারাদেশে বিশেষ প্রচারাভিযান কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন জানান, নারী ক্যানসার রোগীদের মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যুহার যথাক্রমে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ।
তবে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধনের ২০১৪ সালের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী নারী ক্যানসার রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তথা ২৭ দশমিক ৪ শতাংশই স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত।
নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই ক্যানসারের স্থান দ্বিতীয় তথা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। আর শীর্ষ অবস্থান থাকা ফুসফুসের ক্যানসার ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ। স্তন ক্যানসার রোগীদের গড় বয়স প্রায় ৪৩ বছর, জানান রাসকিন।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের আনুমানিক জনসংখ্যা ১৫ কোটি ২৪ লাখ ৮ হাজার। এর মধ্যে প্রতিবছর সব মিলিয়ে মোট এক লাখ ২২ হাজার ৭১৫ জন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর মারা যাচ্ছেন ৯১ হাজার ৩৩৯ জন।
ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ‘আমাদের দেশে সচেতনতার অভাবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনেক দেরিতে ক্যানসার ধরা পড়ে। এ কারণে চিকিৎসায় রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। এই রোগের বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয়ে মানুষকে সচেতনতা করতে পারলে প্রাথমিক পর্যায়ই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে স্তন ক্যানসার চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসেবে প্রতিবছর যে এক লাখ ২২ হাজার মানুষ নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে, এর এক-চতুর্থাংশ রোগীই সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় আসছে না। এই বিপুল সংখ্যক ‘হারানো’ রোগীদের বড় অংশ রোগ নির্ণয়ের বাইরে থেকে যাচ্ছে। কিছু গ্রাম কবিরাজ ও অন্যান্য হাতুড়ে ডাক্তারের চিকিৎসার শিকার হচ্ছে।’

স্তন ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিছু প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরেন মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। তিনি বলেন, ‘স্তন ক্যানসার চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় আধুনিক ওষুধ ও প্রযুক্তি, প্রশিক্ষিত জনবলের সমম্বয় ঘটিয়ে আধুনিক চিকিৎসার একাধিক প্রতিষ্ঠান সরকারিভাবে গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় ক্যারসার ইনস্টিটিউট ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে মূলত প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার উপযুক্ত দক্ষ জনবল গড়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে। এখানে স্তন ক্যানসার নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য সুপার স্পেশালিস্ট তৈরি করা হবে ও বেস্ট ক্লিনিক পরিচালনা করতে হবে।’
‘এ ছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে আঞ্চলিক ক্যানসার কেন্দ্র ও জেলা উপজেলায় ‘সূচনায় ক্যানসার নির্ণয় কেন্দ্র’ খুলতে হবে।

সীমিত পরিসরে হলেও প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে ক্যানসার প্রতিরোধ ও স্ক্রিনিং সেবা দিতে হবে’ বলেন রাসকিন।
অক্টোবর মাসব্যাপী সচেতনতা মূলক নানা কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক বলেন, আগামী ১০ অক্টোবর সকাল ৯টায় শাহবাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে ভিসির নেতৃত্বে গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা বের করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্য উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাবেরা খাতুন, অপরাজিতা-এর চেয়ারপারসন নিলুফার তাসনিম, সিসিপআর-এর নির্বাহী পরিচালক মুসাররাত সৌরভ, ডা. সাঈদা খানম, হেলেনা মহসিনা সরকার, ডা. সাইয়েদা খান, ডা. ইয়াসমিন সুলতানা, ডা. তারেক এম হুসেইন, সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।