তামিম চৌধুরী : ভাব বিনিময়। নানান জিনিষ আদান প্রদান। ধীরে ধীরে প্রেম। এক সাথে ঘুরে বেড়ানো। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে চুকিয়ে চুকিয়ে আড্ডা। আরও কতকি? এরপর লিভ টুগেদার। সামাজিকতা রক্ষায় বিয়ে। প্রতারনার শেষ নেই। ভূয়া কাবিননামা। তিন বছর একসঙ্গে বসবাস। ক্যাম্পাসে জানাজানি ছিল ওরা স্বামী-স্ত্রী। ওরা সংসার পেতেছে। ভালই চলছিল। কিন্তু পিতা-মাতার চাপ ও সন্দেহ থেকে জবির সেই ছাত্রী যখন পরিবারের মান রক্ষায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে সামনে আসেন তখনই বেকে বসে ওই প্রতারক আতাউল্লা হাসান। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। ছাত্রীটিও একই বিভাগের শিক্ষার্থী।

পুলিশ ওই ছাত্রীর স্বজনদের সূত্রে জানাগেছে, আতাউল্লা হাসান প্রথমে সব কিছুই অস্বীকার করেছিল। কোন কিছুই বলতে রাজি হননি। পরে বিভিন্ন ভাবে কথা বলার পর লিভ টুগেদারের কথা স্বীকার করলেও বিয়ের কথা অস্বীকার। তিনি জানান আমি বিয়ে করিনি। নানান বাহানা করে। শারিরীকভাবে ব্যবহারের জন্যে বিয়ের ভূয়া কাবিন নামা করেছিল।

ছাত্রীর ফুফুর সূত্রে জানাগেছে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে সাংবাদিকতা বিভাগে একসঙ্গে ভর্তি হওয়ার পর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ওই ছাত্র এবং ছাত্রী। ছাত্রীর অভিযোগ, বিয়ে করে ২০১২ সালের আগস্ট থেকে জুরাইনের একটি বাসায় থেকে আসছিলেন তারা। তবে সম্প্রতি হাসান বিয়ের কথা অস্বীকার করলে মেয়েটি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ওই কাবিননামা ভুয়া।

প্রক্টর কার্যালয়ে দেয়া অভিযোগে মেয়েটি দাবি করেন, সোমবার দেখা করতে গেলে হাসান তাকে লাথি দিয়ে বাস থেকে ফেলে দেন। সালিশ বৈঠকে বিয়ের কথা অস্বীকার করে মেয়েটিকে চরিত্রহীন দাবি করেন হাসান। সালিশের এক পর্যায়কে হাসানকে প্রস্তাব দেয়া হয় মেয়েটিকে বিয়ে করতে। কিন্তু তিনি ওই প্রস্তাবে রাজি হননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূর মোহাম্মদ জানান, দুই পক্ষকে ডাকা হয়েছিল। ছেলে বিয়ের বিষয়টি স্বীকার না করলেও লিভ টুগেদারের বিষয়টি স্বীকার করেছে। কিন্তু ছেলে তার ফাঁসি হলেও ওই মেয়েকে বিয়ে করবে না।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই বলেছেন, আতাউল্লা আর ওই শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ছিল স্বামী-স্ত্রীর মতো। আতাউল্লা ওই এলাকাতেও মাঝে মাঝে থাকতেন। এলাকাতেও এনিয়ে নানান সমালোচনা হতো। তবে সে সময় তারা বলতো তাদের বিয়ে হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে কদমতলী থানায় এ মামলা দায়ের করা হয় বলে জানিয়েছেন থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, জবির এক ছাত্রী তার সহপাঠীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমরা তা মামলা আকারে রেকর্ড করেছি রাতে।

এর আগে সোমবার রাতে আতাউল্লাহর বিরুদ্ধে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দফতরে উভয়পক্ষকে ডাকা হয়।

প্রায় চার ঘণ্টার ওই সালিশের শুরুতেই আতাউল্লাহ ওই ছাত্রীর সঙ্গে বিয়ের সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি অভিযোগকারী ছাত্রীর ফুফুকে তার নিজের পক্ষের সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করেন।

তবে ওই শিক্ষার্থীর ফুফু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের শারীরিক সম্পর্কের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন। পরে অভিযুক্ত আতাউল্লাহও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি স্বীকার করেন।

এ সময় ওই ছাত্রীর দাবি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুইপক্ষকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আতাউল্লাহ বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। এর পরেই মামলাটি দায়ের করা হয়।

অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে চার ঘণ্টার সালিশী বৈঠক শেষে প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ, সহকারী প্রক্টর মোস্তফা কামাল ও কোতয়ালি খানার এসি শাহেন শাহ, কদমতলী থানা পুলিশের কাছে আতাউল্লাহকে সোপর্দ করেন। এরপর রাত সাড়ে ১০টায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্পর্ক স্থাপন আইনে ধর্ষণ বলে গণ্য হওয়ায় এই ধারায় মামলা করেন ওই ছাত্রী।