আপন জুয়েলার্সের প্রায় সাড়ে ১৫ মণ স্বর্ণালঙ্কার জব্দের পর এর মালিক দিলদার আহমেদ ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

ঢাকা কাস্টমস হাউজে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন,“ শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে দিলদার আহমেদের বিরুদ্ধে তিনটি, তার ভাই গুলজার আহমেদের বিরুদ্ধে একটি এবং আরেক ভাই আজাদ আহমেদের বিরুদ্ধে অপর মামলাটি করেছি।”

মইনুল খান বলেন, কাস্টমস হাউজের বিচারিক ক্ষমতা আছে। তারা বাদী- বিবাদিদের ডেকে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে রায় দিতে পারবেন।
“কাস্টমস আইনে এই পণ্য রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হতে পারে বা পণ্য মূল্যের আড়াই গুণ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। তবে তারা জেল দিতে পারবেন না।”

আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি শো-রুম থেকে জব্দ স্বর্ণালঙ্কারের বিষয়ে আগামী সপ্তাহে ফৌজদারি আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

দিলদারের বড় ছেলে সাফাত আহমেদ বনানী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বনানীতে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি শো-রুম থেকে শুল্ক গোয়েন্দারা রোববার ১৫ দশমিক ১৩ মণ স্বর্ণালঙ্কার এবং আনুমানিক ১০ কোটি টাকা দামের ৭ হাজার ৩৬৯টি হীরার অলঙ্কার আনুষ্ঠানিকভাবে জব্দ করে। এরপর ঢাকা কাস্টম হাউজের গুদাম কর্মকর্তার মাধ্যমে সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। আটক এসব সোনা ও হীরার দাম প্রায় ২৭০ কোটি টাকা বলে শুল্ক গোয়েন্দাদের ভাষ্য।
দিলদার ও তার দুই ভাই দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদে এসব সোনা-হীরার বৈধতার কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাদের স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয় বলে মইনুল খান জানিয়েছিলেন।

এছাড়া আপন জুয়েলার্সের মালিকরা আয়কর ও ভ্যাটের দলিলে যে পরিমাণ স্বর্ণ মজুদ থাকার কথা বলেছেন, তার সঙ্গে শো-রুমগুলো থেকে আটক স্বর্ণের পরিমাণের বিস্তর ফাঁরাক থাকার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।