ক্যাডেট কলেজের ছাত্রী শর্মিলা শাহরিন পলিন হত্যা মামলায় সেনা কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে মামলা চলার বিষয়ে হাইকোর্টের রায় ১৪ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।
আসামিদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৮ মে) সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এই মামলার আসামিরা হলেন মেজর নাজমুল হক, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট ক্যাডেট কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আবুল হোসেন, নন কমিশন্ড অফিসার মো. নওশেরুজ্জামান, হোস্টেলের আয়া হেনা বেগম ও মেজর মনির আহমেদ চৌধুরী।
পাঁচ আসামির মধ্যে মেজর নাজমুলসহ চারজন জামিনে রয়েছেন। অপর আসামি মেজর মনির পলাতক।
আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। অপরদিকে পলিনের বাবার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল মামলা বাতিলে আসামিদের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট। এর ফলে বিচারিক আদালতে এই মামলার কার্যক্রম চলতে বাধা নেই বলে জানিয়েছিলেন আইনজীবীরা।
ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে ২০০৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী শর্মিলা শাহরিন পলিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিনই ময়মনসিংহ কোতয়ালি থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন কলেজের অধ্যক্ষ খাদেমুল ইসলাম।
একই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি পলিনের পিতা আবুল বাশার পাটোয়ারি ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালতে কারো নাম উল্লেখ না করে দায়িতপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। আদালত বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।
২০১৩ সালের ২২ মে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৬ সালের ৩ মার্চ ময়মনসিংহের জজ আদালত মেজর নাজমুল হকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
অভিযোগ গঠন আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে একই বছর আসামিপক্ষ। আদালত ২০১৬ সালের ১ জুন পলিন হত্যা মামলার বিচার কাজ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন ও রুল জারি করেন।
এ রুলের ওপর চলতি বছর ২২ মার্চ শুনানি শেষে ৬ এপ্রিল রায়ের দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। ওইদিন আদালত রুল খারিজ করে রায় দেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পরে আপিল বিভাগে আবেদন করেন আসামিরা।