রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রক্তকরবী নাটকের নন্দিনী কিংবা শেষের কবিতা উপন্যাসের লাবণ্য অনেকেরই স্বপ্নের চরিত্র। বিখ্যাত এই দুটি চরিত্রেই মঞ্চে অভিনয় করেছেন নূনা আফরোজ। ঢাকার প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদল প্রযোজিত ‘রক্তকরবী’ এবং ‘শেষের কবিতা’ নাটকে নন্দিনী এবং লাবণ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
নন্দিনী চরিত্রটিকে সব সময়ের বলে মনে করেন এই অভিনয়শিল্পী ও নাট্যনির্দেশক। নূনা আফরোজ বলেন, ‘নন্দিনী সব সময়ের। রবীন্দ্রনাথ যখন লিখেছিলেন তখনো ছিলো, তার আগেও ছিলো, এখনো আছে, হাজার বছর পরও থাকবে সভ্যতার জন্য, মানবতার জন্য, বিদ্রোহের জন্য, ভালোবাসার জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘নন্দিনী একটি আলোর দূত বহনকারী চরিত্র যে চরিত্রের ভেতরে সভ্যতা, মানবিকতা, বিদ্রোহ, ভালোবাসা আর সকল ধরনের শোষণ, নির্যাতন ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে একা বিদ্রোহ ও প্রতিবাদ করার যে দূর্দমনীয় সাহস সেটা নন্দিনী অতীতে যেমন দেখিয়েছে, এখনো দেখাচ্ছে, ভবিষ্যতেও দেখাবে। সে কারণে বিদ্রোহের পক্ষে, ভালোবাসার পক্ষে, মানবতার পক্ষে, প্রতিবাদের পক্ষে নন্দিনী বিশ্বব্যাপী সর্বকালের সার্বজনীন চরিত্র।’
মঞ্চে রক্তকরবী নাটকটি নির্দেশনাও দিয়েছেন নূনা আফরোজ। তিনি বলেন, ‘বিশ্বসেরা নাট্যকার শেক্সপিয়রেরর ‘হ্যামলেট’ যেমন সকল সময় সকল দেশে সকল কালে শিক্ষিত ও পরীক্ষিত সকল অভিনেতার নিজেকে প্রমাণ করার শেষ চরিত্র ঠিক তেমনি নন্দিনীও সর্বকালে সকল শিক্ষিত ও পরীক্ষিত অভিনেত্রীর নিজেকে প্রমাণ করার সর্বশ্রেষ্ঠ হাতিয়ার।

রক্তকরবী নাটকে অভিনয় এবং নির্দেশনার কাজটিকে নিজের নাট্যজীবনের সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা উল্লেখ করে নূনা আফরোজ বলেন, ‘এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে এবং একই সাথে এই ‘রক্তকরবী’ নাটকের নির্দেশনা দিতে পেরে আমার নাট্যজীবনের সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েও আমি যে দর্শক ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছি সে কারণে আমার অভিনীত ও নির্দেশিত রক্তকরবীর সকল দর্শককে প্রণতি জানাই।’