বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির জামাই বলে কথা! কিন্তু সেই শ্বশুরমশাই যে তাকে এমন অস্বস্তিতে ফেলবেন, তার আঁচ আগে পাননি তৃণমূল নেতা জামাই। জামাই বাড়িতে এসে বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি যে মোদী বন্দনা করে গেলেন। আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি উগড়ে দিলেন তীব্র ক্ষোভ।

‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নয়, তিস্তার জল নিয়ে মোদিজির সঙ্গেই কথা বলব।’ বুধবার ঠিক এভাবেই তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সভাধিপতিকে পাশে বসিয়ে ডুয়ার্সের মেটেলির বাতাবাড়িতে এক জামাইয়ের বাড়িতে একথা বলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ। বুধবার তিনি বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ এরশাদ তার জামাই তথা তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতি রেজাউল বাকির বাড়িতে আসেন। সেখানে তাঁকে রাজকীয় সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। এরশাদের পাশে ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি নূরজাহান বেগম।

সেই সময়েই তিস্তার জলবন্টন চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তিস্তার জল নিয়ে একবার নয়, এক হাজার বার বলব। তিস্তার জল আমাদের চাই। পশ্চিমবঙ্গ সরকার গাজলডোবায় তিস্তা নদীতে বাঁধ দিয়ে জল নিয়ে যাচ্ছে। আর আমাদের নদিতে একফোঁটাও জল নেই। আমাদের কৃষকেরা জলের জন্য হাহাকার করছেন। তিস্তার জল নিয়ে মমতার সঙ্গে কোন কথাই বলব না। আমাদের মোদীজির উপর ভরসা আছে। এই চুক্তি নিয়ে তাই আমরা মোদীজির সঙ্গেই কথা বলব।’

তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির মন্তব্য প্রসঙ্গে তাঁর জামাই রেজাউল বা তৃণমূলের জেলা সভাধিপতি নূরজাহান বেগম কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ওপার বাংলার মাননীয় অতিথিকে বরণ করতে গিয়ে তখন চরম অস্বস্তির মুখে তৃণমূল নেতারা। বিশেষত এরশাদ সাহেব যাঁর শ্বশুরমশাই, সেই তৃণমূল নেতা রেজাউল তখন শ্যাম রাখবেন না কুল রাখবেন, সেটাই বুঝতে পারছিলেন না।

এরশাদ সাহেবের জন্ম অবশ্য ভারতের কোচবিহার জেলায়। পরবর্তী সময়ে তাঁর পরিবার বাংলাদেশে চলে যায়। রাষ্ট্রপতি থাকার সময়েও ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবই দেখিয়েছেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক তিস্তা জলবন্টন চুক্তি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁকে বসায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর উপরে আর ভরসা করতে রাজি নন এইচ এম এরশাদ।