লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রধানমন্ত্রীর সিক্রেট সার্ভিসের দায়িত্বে কর্মরত পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গত সোমবার সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন হারুণ কাদী নামের এক ব্যক্তি। শুক্রবার এ অভিযোগের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন অভিযুক্ত কাজী জাবের। সংবাদ সম্মেলন তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, হারুন কাদী যে সকল অভিযোগ উত্থাপন করেছেন সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। কাজী জাবের উদ্দীন বলেন, হারুন কাদী অভিযোগ তুলেছেন তিনি আমাকে এক কোটি ৯৫ লাখ টাকা দিয়েছেন সম্পত্তি ক্রয় বাবত, কোনো লিখিত ডকুমেন্ট ছাড়াই শুধু আমার সঙ্গে পরিচয় ও কিছু নেতাদের সঙ্গে আমার ছবি দেখে! তিনি জানান, একটি টিভি চ্যানেলে তিনি বলেছেন কাদী সাহেব যদি লিখিত কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেন, তাহলে তিনি এর তিন গুণ অর্থ পরিশোধ করবেন এবং এর প্রমাণ দেখাতে না পারলে এর পরিনাম কি হবে সেটা আগামীই বলবে।
জাবের উদ্দীন আরো বলেন, হারুন কাদী আরো অভিযোগ করেন আমি তাকে সঙ্গে নিয়ে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ গিয়েছি, যেটা সত্যি এর কারণ উনার পারিপারিক কিছু ঝামেলা এবং তার সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আমাকে সঙ্গে নিয়ে যায় এবং প্রায় দু’সপ্তাহ আমাদের বাসায় ছিলেন এবং ২৫ জানুয়ারি এক সঙ্গে লন্ডন ফিরি। কিন্তু হারুন কাদী গত ৩ এপ্রিল বাড়ি নিয়ে এক কোটি ৯৫ লাখ টাকা বায়না (যার বাজার মূল্য ১৬ কোটি টাকা) বলেছেন, সেই বাড়িটা মামলা চলার কারণে বিক্রি বা ভাড়া নিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করে একটি সাইন বোর্ড যেটি কিনা কোর্টের পক্ষ থেকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জাবের উদ্দীন বলেন, হারুন কাদী সংবাদ সম্মেলন করে তিনি আমার স্ত্রী ও নাবালক কন্যার ছবিসহ, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং জনপ্রতিনিধিদের ছবি দেখিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ ভাবে আইন পরিপন্থী। তিনি বলেন, তার এই ধরনের হীন কাজের মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতিকে হেয়প্রতিপন্ন করার সামিল।

সংবাদ সম্মেলনে কাজী জাবের উদ্দীন, হারুন কাদীরের সকল অভিযোগ কাল্পনিক বানোয়াট বলে অবহিত করেন।
উল্লেখ্য, কাজী জাবের উদ্দিনের বাংলাদেশে ঢাকার উত্তরায় একটি পারিবারিক মালিকানাধীন হোটেল ক্রয়ের বায়না বাবদ ৫ জানুয়ারি জাবেরের নামে স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংকের চেকে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। যা ৮ জানুয়ারি তার ব্র্যাক ব্যাংক উত্তরা ব্রাঞ্চ শাখায় ক্যাশ করে নেয় কাজী জাবের। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারে হোটেলটি তাদের পারিবারিক ব্যবসা, তার এককভাবে বিক্রি করার কোনো এখতিয়ার নাই। তাই টাকা ফেরত চাইতে গেলে নানা রকম টালবাহানা শুরু করে। এবং টাকা নেয়ার ব্যাপারটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

হারুন কাদীর সংবাদ সম্মেলন পরে যদি ও কাজী জাবের এই বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়াধীন বলে কোনো ধরণের মন্তব্য করতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু তিনদিন পর সংবাদ সম্মেলন করে হারুণ কাদীর অভিযোগ অস্বীকার করে এই ঘটনার সঙ্গে তাকে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে হয়রানী করা হচ্ছে বলে দাবি করেন জাবের।

সংবাদ সম্মেলনে হারুণ কাদীর সঙ্গে তার কোনো আর্থিক লেনদেন নাই বলে দাবি করলেও দেশে হারুন কাদীর নামে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার চেক বাউন্সের উকিল নোটিশ প্রেরণ করেছেন কাজী জাবের। যে চেকটি ২৩ মার্চ নামে ভূলের কারণে ক্যাশ হয়নি।

অথচ হারুন কাদীর দেয়া ব্যাংক স্টেইটমেন্টে একই একাউন্টে তিন দিন পরে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ক্যাশ হওয়ার তথ্য দেয়া আছে।

সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে ও সাংবাদিকদের অনেক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান কাজী জাবের।
এমনকি হারুণ কাদীর টাকা নিয়ে মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে তার আলাপচারিতার টেপ রেকর্ডের বিষয়টি ও এড়িয়ে যান জাবের।