প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজ আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানাবে ভারত। দেওয়া হবে গার্ড অব অনার। সেজন্য প্রস্তুত রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোর্স কোর্ট। এটি রাষ্ট্রপতি ভবনের বিশাল প্রশস্ত আঙ্গিনা, যার আগে নাম ছিলো ভাইসরয় কোর্ট। জয়পুর স্তম্ভটিও এই জায়গাটিতে। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা সকাল ৯টায়।

এর পরপরই তিনি যাবেন রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে।

সেখান থেকে ফিরে দিনের প্রথমার্ধেই নির্ধারিত রয়েছে বহুল কাঙ্ক্ষিত দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক। হায়দ্রাবাদ হাউজের ডেকান সুইটে এই বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক। যা অনুষ্ঠিত হবে হায়দ্রাবাদ হাউজের কনফারেন্স হলে। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী এগিয়ে যাবেন এই ভবনেরই বল রুমে। সেখানে একের পর এক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর।

আগেই জানানো হয়েছে, অন্তত ৩৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে দুই দেশের মধ্যে। যার মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বাড়বে। শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি সে চুক্তি স্বাক্ষর প্রত্যক্ষ করবেন। চুক্তি সই করবেন দুই দেশের সংশ্লিষ্টরা। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হয়ে এসেছেন ছয় জন মন্ত্রী, উপদেষ্টা কিংবা প্রতিমন্ত্রী। আরও রয়েছেন সচিব কিংবা সচিব পর্যায়ের আরও ২৫ কর্মকর্তা।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই হলরুমেই একটি প্রকাশনা অনুষ্ঠান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী হিন্দিভাষায় অনূদিত হয়েছে। তারই প্রকাশনা উৎসবে অংশ নেবেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

দুপুরে নরেন্দ্র মোদির দেওয়া রাষ্ট্রীয় ভোজ। হায়দ্রাবাদ হাউজের ব্যনকয়েট হলে এই ভোজ আয়োজন করা হচ্ছে।

ভোজ শেষে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুই প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি।

বিকেলে ভারতকে সম্মান জানানোর পালা। বেলা সাড়ে তিনটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাবেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের সম্মাননা দিতে। মানেক শ সেন্টারে সে অনুষ্ঠানে শহীদদের মধ্যে কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। তাদের হাতেই শেখ হাসিনা তুলে দেবেন এই সম্মাননা।

সন্ধ্যায় ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির সঙ্গে দেখা করবেন শেখ হাসিনা। মাওলানা আজাদ এভিনিউতে উপরাষ্ট্রপতির বাসভবনেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আর তার মধ্য দিয়েই একটি ব্যস্ততার দিন শেষ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।