স্বাধীনতার প্রশ্নে নতুন করে গণভোট আয়োজনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন স্কটিশ আইনপ্রণেতারা।

মঙ্গলবার এ ইস্যুতে ভোটাভুটিতে গণভোটের পক্ষে সমর্থন বেশি পড়ে। স্কটিশ আইনপ্রণেতারা তাদের রায় যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে তুলে ধরবেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে যখন নানামুখী চাপ ও সংকটে রয়েছে যুক্তরাজ্য, তখন স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের দাবি আরো বেশি ভোগাবে দেশটিকে।

আগের বার সামান্যের জন্য গণভোটে হেরে যায় স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাকামীরা। তবে এবার গণভোট হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। গণভোটে জাতীয়তাবাদীরা ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যকে প্রত্যাহার করে নিতে ভোট দিয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছেন স্কটিশ স্বাধীনতাকামীরা।

এডিনবার্গ ভিত্তিক স্কটিশ আইন পরিষদে মঙ্গলবার ভোটাভুটি হয়েছে। স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের জন্য যুক্তরাজ্য সরকার পদক্ষেপ নিক- এর পক্ষে ভোট পড়েছে ৬৯টি। আর বিপক্ষে পড়েছে ৫৯টি ভোট। এ সংবাদ শোনার পর স্বাধীনতাকামীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।

স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্ট্রুজন এই গণভোট আয়োজনের পক্ষে। যুক্তরাজ্য সরকারকে গণভোট আয়োজনের অনুরোধ জানানোর জন্য তার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইনপ্রণেতারা।

নিকোলা স্ট্রুজন বলেছেন, ‘ইইউ থেকে ব্রিটেন বেরিয়ে যাওয়ার আগে স্কটিশদের তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘স্কটল্যান্ডের ভবিষ্যৎ স্কটিশদের হাতে থাকতে হবে।’

এদিকে, দুই বছরের মধ্যে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াসংক্রান্ত এক চিঠিতে বুধবার স্বাক্ষর করেছেন থেরেসা মে। চিঠিটি ইইউ-এর সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো হবে।

স্বাধীনতার প্রশ্নে ২০১৪ সালে স্কটল্যান্ডে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, তা প্রত্যাখ্যান করে অধিকাংশ স্কটিশ। তখন গণভোটের প্রচারে স্ট্রুজনের ‘স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি’ বলেছিল, স্বাধীনতার প্রশ্নে এক প্রজন্মে একবার গণভোট হবে। কিন্তু স্ট্রুজন দাবি করেছেন, ব্রেক্সিটের পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।

স্ট্রুজন মনে করেন, ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে নতুন গণভোট আয়োজন করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে ইইউ থেকে ব্রিটেন পুরোপুরি বের হয়ে যাবে। তার আগেই গণভোটের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ দিতে হবে স্কটিশদের।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন।