প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। দলের নেতাকর্মীরা বারংবার জানিয়েছেন কিভাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দিবেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার সকাল থেকেই ঢাকার রাজপথে জমায়েত হতে থাকে আওয়ামী লীগসহ চৌদ্দ দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দুপুর গড়াতেই বিমান বন্দর থেকে শুরু করে গণভবন পর্যন্ত জনসমদ্রে পরিণত হয়। ফুল, ব্যানার, পোস্টার নিয়ে আগত নেতাকর্মীরা `জয় বাংলা’, `শেখ হাসিনার আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’ স্লোগানে মুখরিত করে তোলে রাজধানীর রাজপথ। দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে পূর্বনির্ধারিত সময়ের সোয়া ১ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর থেকে রাজপথে নেমে আসতেই স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হতে থাকে। রাস্তার দু’ধারে নেতাকর্মীরা অভিবাদন জানায় তাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও হাত নেড়ে তাদের অভিবাদন গ্রহণ করেন ও শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৭টা ৩৩ মিনিটে গণভবনে পৌঁছেন।
এদিকে শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের বিশৃঙ্খল অবস্থানের জন্য রাজধানীতে শুরু হয় অসহনীয় যানজট। ছুটির দিনেও নগরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেই সঙ্গে বিসিএস, ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা শেষে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতেও ভোগান্তিতে পড়েন এসব পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা।
প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি (ফ্লাইট নং- ইকে ৫৮৬) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৩৭মিনিটে দুবাই এয়ারপোর্ট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।

pm
প্রসঙ্গত, কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান, রাজনৈতিক, সামাজিক নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফলপ্রসূ বৈঠক করেন, জাতিসংঘের ৭১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন। সেই সঙ্গে দক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনা ও বহুমাত্রিক অবদানস্বরূপ জাতিসংঘ পদক ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত হন শেখ হাসিনা।
কানাডায় গ্লোবাল ফান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের ৭১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা ছেড়েছিলেন তিনি।