পথচারীদের চলাচলের পথ ফুটপাত দখলে রাখা আট দূতাবাসকে এক মাসের মধ্যে জায়গা ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ফুটপাতে রাখা নিরাপত্তামূলক স্থাপনাগুলো তারা দূতাবাস কম্পাউন্ডে সরিয়ে নিতে বলেছে।

মঙ্গলবার বিকালে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিসবাহুল ইসলামের সই করা এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেয়া হয়। সিটি করপোরেশনের জিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই চিঠি দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জার্মানি, কানাডা, ফ্রান্স, ইউকে, অস্ট্রেলিয়া এবং তুরস্কেও দূতাবাসগুলোকে।

এই দূতাবাসগুলো তাদের নিজস্ব স্থাপনা দূতাবাসের বাইরের ফুটপাতে রেখে মানুষের হাঁটা বন্ধ করে দিয়েছে। কোনো কোনো দূতাবাস ফুটপাত বড় শেকল দিয়ে ঘেরাও করে রেখেছে। কোনোটি আবার স্থায়ী স্থাপনা তৈরি করেছে। ফলে মানুষকে ফুটপাতের বদলে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা সময় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন মানুষ।

দূতাবাসগুলোর ফুটপাত দখলের বিষয়ে আইনজীবী ওমর সাদাত হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। এরপর ২০০১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রকে ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে তা জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার নির্দেশনা দেয়।

সে নির্দেশনার উল্লেখ করে গুলশান সোসাইটির সভাপতি সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর ফুটপাতের অবৈধস্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবর আবেদন করেন। এ প্রেক্ষাপটে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আট দেশের রাষ্ট্রদূতদের দূতাবাস সংলগ্ন ফুটপাতে অবস্থিত নিরাপত্তা স্থাপনা সরিয়ে নিতে অনুরোধ জানানো হয় বলে করপোরেশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ঢাকাটাইমসকে বলেন, কোনো কর্তৃপক্ষই জনগণের চলার পথ দখল করে রাখতে পারে না। দূতাবাসের সঙ্গে এ বিষয়ে আগেই কথা বলা হয়েছে। আমরা তাদেরকে বলেছি, তাদের নিরাপত্তা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ দেবে। তাই দূতাবাসের সীমানার বাইরে তাদের কোনো সামগ্রী রাখার দরকার নেই।

আট দূতাবাসকে কবের মধ্যে ফুটপাতের দখল ছাড়তে বলা হয়েছে, জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ৩০ মার্চের মধ্যে দখল ছাড়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা তো জোরাজুরি করতে পারি না, আশা করছি আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে একটা সমাধান হবে।’

সম্প্রতি রাজধানীতে ফুটপাতকে দখলমুক্ত করে নগরবাসীর চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য রাজধানীর গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকায় ফুটপাত থেকে হকারদেরকে উচ্ছেদ করে করপোরেশন। ধীরে নগরীর অন্যসব এলাকাতেও একই উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকার দুই মেয়র।