অতীতের সকল ভেদাভেদ ভুলে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে সকলকে এক সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরই অংশ হিসেবে ‘সংস্কারপন্থী’ হিসেবে পরিচিতি দুই নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। বৈঠকে দুই নেতার উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলছেন, ‘জাতীয়তাবাদের মুল শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে দল শক্তিশালী করতে হবে। রাজনীতিতে ঐক্যের ধারা তৈরি করতে হবে।’ বিএনপি দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে গুলশানে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে জহির উদ্দিন স্বপন ও সাখাওয়াত হোসেন বুকুলের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। রাত ১২ থেকে সাড়ে ১২ পর্যন্ত এ বৈঠক চলে।

বৈঠক খালেদা জিয়া বিএনপির এই দুই নেতাকে দলের জন্য কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তারাও বিএনপি প্রধানের পরামর্শ মোতাবেক দলের জন্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জানা গেছে, ২০০৭ সালের এক–এগারোর সময় ‘সংস্কারপন্থী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়ে দলের বাইরে থাকা নেতাদের আবারও দলে ফিরিয়ে আনতে চায় বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর খালেদা জিয়া বৃহস্পতিবার দুই ‘সংস্কারপন্থী’ নেতাকে ডেকে পাঠান এবং তাদের সাথে কথা বলেন এবং দলের জন্য কাজ করতেও বলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব নিজে ফোন করে আমাদের ডেকেছেন। গত রাতে ১২টা থেকে সাড়ে ১২ পর্যন্ত আমরা ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এক-এগারোর বিশেষ পরিস্থিতিতে আমরা অনাকাঙিক্ষত ভূমিকায় জড়িয়ে পড়েছিলাম। এর জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। ম্যাডামও উনার স্নেহ ও আবেগ দিয়ে আমাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন।’
দেশের জাতীয় সংকট মোকাবিলায় খালেদা জিয়া ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান শপন।

বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘ম্যাডাম গতকাল রাতে আমাদের ডেকেছিলেন। আমারা ম্যাডমের সঙ্গে দেখা করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক সংকট সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে।একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

ওয়ান ইলেভেনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০০৭ সালের ২৫ জুন বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া দলের অভ্যন্তরে ১৫ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিলে ১২৭ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী-এমপি তাকে সমর্থন জানান। তখন থেকে ‘সংস্কারপন্থী’ নেতা হিসেবে তারা আলোচনায় আসনে। নানামুখী প্রতিবন্ধকতার কারণে শতাধিক নেতাকে ‘সংস্কারপন্থী’ চিহ্নিত করে দলের বাইরে রাখা হয়।