নাটোরে রোগীর কিডনি চুরির অভিযোগে আটক ডাক্তারকে তিন দিনের জিম্মায় নিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন।

অভিযুক্ত ডাক্তার হলেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এম এ হান্নান। নাটোরের বেসরকারি জনসেবা হাসপাতালে চিকিৎসা করার সময় এই চুরির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সিভিল সার্জনের পক্ষে নাটোর সদর থানা থেকে অভিযুক্ত এমএ হান্নানকে ছাড়িয়ে নেন সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

এ ছাড়া আগামী তিন দিনের মধ্যে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে অভিযোগকারী ভুক্তভোগী রোগী আসমা বেগমের কিডনি অনুসন্ধানে সকল দায়িত্বও নিয়েছেন তিনি।

তিন দিনের মধ্যে কিডনি অনুসন্ধান করতে না পারলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে মর্মে থানায় লিখিত ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগীর স্বামী ফজলু বিশ্বাস।

নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান জানান, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় সদর হাসপাতালের আরএমও-এর জিম্মায় চিকিৎসককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যদি তিন দিনের মধ্যে রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কিডনি না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে, তখন অভিযোগ দিলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

এ বিষয়ে নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিসক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আসমা বেগমের পরিবার ও পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নাটোর হাসপাতালে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হয়, অন্য কোনো ক্লিনিকে অথবা হাসপতালে আইভি পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে জনসেবা হাসপতাল কর্তৃপক্ষ সে ব্যয়ভার বহন করবে। অথবা রোগীর অভিভাবকরা অন্য কোথাও পুনরায় টেস্ট করাবে। টেস্টে কিডনি নেই প্রমাণিত হলে ফৌজদারী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ কারণে সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে রাত ১০টার দিকে তিনি নিজে জিম্মাদার হয়ে চিকিৎসক ডা এমএ হান্নানকে ছাড়িয়ে নেন। এ সময় বিএমএ ও সাচিব নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ভুক্তভোগী বর্তমানে তার নিজ বাড়ি সিংড়া উপজেলার ছোটচৌগ্রামে অবস্থান করছেন। আগামীকাল রোববার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর জন্য আসমা বেগমকে রাজশাহীতে নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী ফজলু বিশ্বাস বলেন, রোগীর সর্বশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফলের পরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, আইন-শৃংখলা বাহিনী পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।

উল্লেখ্য, কিডনিতে পাথর অপারেশনের নামে কিডনি চুরির অভিযোগে শুক্রবার বিকেলে বেসরকারি জনসেবা হাসপাতাল থেকে ডা এমএ হান্নানকে আটক করে পুলিশ। প্রায় দুই বছর আগে ছোট চৌগ্রামের ফজলু বিশ্বাসের স্ত্রী আসমা বেগমকে জনসেবা হাসপাতালে অপারেশন করেন ডা এমএ হান্নান। অপারেশনের পর থেকেই রোগী মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়তেন। সম্প্রতি আবারো ওই হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডান পাশের একটি কিডনি না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।