সংসদে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করেছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান।

বুধবার দশম জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘এরা কারা? এই পত্রিকাগুলো কাদের? আমি নাম ধরেই বলতে চাই। কারণ, আমি কাউকে ভয় করি না। এমন কোনো কাজ করি নাই যে আল্লাহ রাব্বুল্ল আলামিন ছাড়া কাউকে ভয় পাব।’

এ সময় দেশের দুটি প্রথম শ্রেণির পত্রিকার নাম উল্লেখ করেন শামীম ওসমান।

ক্ষমতাসীন দলের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘এই সংসদের অধিকাংশ সংসদ সদস্য যারা শেখ হাসিনার বাইরে আপস করবেন না, যারা রাইজিং লিডার, প্রতিনিয়ত কোনো না কোনোভাবে তাদের বিরুদ্ধে লিখে দেওয়া হচ্ছে। সূত্র অমুক বলে লিখে দেওয়া হচ্ছে। আমি নিজে সবচেয়ে বড় ভিকটিম। আমার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে কোন পত্রিকায় লেখা হয় নাই? লংমার্চ, গোলাম আযম এবং নিষিদ্ধপল্লী এই তিনটি বন্ধ করার পর আমাকে গডফাদার বানানোর চেষ্টা করা হয়। এখনো হচ্ছে, ভবিষ্যতে হবে।’

স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, এটা আমার শেষ বক্তব্য কি না। আমি এটাও জানি না, আজকে আপনাকে আমি শেষ দেখছি কি না। কারণ, শকুনিরা চারিদিকে গরম নিঃশ্বাস নিচ্ছে। নিঃশ্বাস নিচ্ছে শেখ হাসিনার অগ্রগতিকে ঠেকিয়ে দেওয়ার জন্য। আমি তাকে (শেখ হাসিনা) খুব ভালোবাসি। আমার মতো সবাই তাকে ভালোবাসে। যারা বেশি ভালোবাসে তাদের ওপরই আঘাতটা বেশি হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের ৯০ ভাগ সাংবাদিক ভালো মানুষ। কিন্তু যারা ওয়ান ইলেভেন ঘটাতে চায়, আর কিছু আঁতেল সুশীল আছেন, যারা নতুন করে চক্রান্ত শুরু করেছেন। চক্রান্তটি কী- শেখ হাসিনার প্রশ্নে যারা বিন্দু পরিমাণ আপস করবে না তাদেরকে টার্গেট করা হচ্ছে। চরিত্র হরণ করা হবে। এমনভাবে করা হবে যাতে আগামীতে তারা রাস্তায় জনগণের সামনে যেতে না পারে। কিংবা দলের ভিতরে বিতর্কিত করা হবে। হয়তো দলের ভিতরেও কিছু লোক থাকতে পারে এগুলো করার জন্য। এটা হতেই পারে। কারণ, মোশতাক তো এই দলেরই লোক ছিল। ওরা নতুন করে ষড়যন্ত্র করেছে। বিদেশের মাটিতে মিটিং হয়েছে।’

তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, ‘ওরা আমার দলের লেবাস পরে আছেন, ভালো কথা। সরকারের সুযোগ-সুবিধাও নেন। উপদেষ্টাও হন। ওনার পত্রিকায় গত তিন দিন আগে লেখা হলো বিভিন্ন সংসদ সদস্যের নামে, আমার নামসহ। আমি অবাক হলাম। কষ্ট পেলাম। বলে কী এই লোকটা? কে এই লোক, ওনার ব্যাকগ্রাউন্ড কী? ব্যাকগ্রাউন্ড দেখলাম। ১৯৭০ সালে অবজারভারের সলিমুল্লাহ সাহেব ছিলেন স্পোর্টস রিপোর্টার। উনি মুক্তিযুদ্ধে চলে যান। আর এই ভদ্র লোক তখন এসে তার স্থলাভিষিক্ত হন ১৯৭১ সালে। ১৯৭১ সালের ৫ মে উনি জয়েন করেন। এই ভদ্রলোক গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যারা যারা সই করেছিল তাদের মধ্যে অন্যতম। এই লোকটা কে? ওনি তো আমাদের মধ্যেই ঘোরাফেরা করেন। প্রগতিশীল সাজেন। আর এই সংসদ সদস্যদের মাদকসম্রাট বানানোর চেষ্টা করেন।’

দুটি পত্রিকার দিকে ইঙ্গিত করে শামীম ওসমান বলেন, ‘ওদের সাহস বেড়ে গেছে। কারণ ওদের কিছু হয় না।’