মামুন খান ।।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার জাতীয় দলের ক্রিকেটার আরাফাত সানীর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার বিকেলে ঢাকা মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হুইয়ের আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে রিমান্ড শুনানি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরাফাত সানীকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. ইয়াহিয়া।

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আসামি আরাফাত সানীর সঙ্গে বাদী নাসরিন সুলতানার প্রায় ৭ বছর আগে পরিচয়ের সূত্রে ঘনিষ্ঠতা হয়। তারা অভিভাবককে না জানিয়ে ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর বিয়ে করেন। বাদী বিভিন্ন সময়ে বিয়ের বিষয়টি অভিভাবকদের জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ঘরে তুলে নেওয়ার জন্য আরাফাত সানীকে বলেন। কিন্তু আসামি তার কথায় কর্ণপাত না করে ভয়ভীতি দেখান। গত বছর ১২ জুন রাতে নাসরিন সুলতানার নাম এবং মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে ওই আইডি থেকে বাদীর আসল আইডিতে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি পাঠান আরাফাত সানী। বাদীকে নানা হুমকি দিতে থাকেন আরাফাত সানী। গত ২৫ নভেম্বর রাতে আরাফাত সানী নাসরিন সুলতানার নগ্ন ছবি তার ফেসবুকে পাঠিয়ে আরো ভয়াবহ অবস্থা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে আসামিকে ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন। এজন্য তার রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।

আসামির পক্ষে তার আইনজীবী এম জুয়েল রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের শুনানি করেন। তিনি বলেন, আরাফাত সানী আমাদের গর্ব। সামনে তার জাতীয় পর্যায়ে খেলা আছে। তার খ্যাতিতে কেউ ঈর্ষান্বিত হয়ে এ মামলা করেছে। এ মামলায় রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম জুয়েল বলেন, আসামিকে রিমান্ডে নিলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। এজন্য তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আরাফাত সানীর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, রোববার সকালে আমিনবাজারের বাসা থেকে আরাফাত সানীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ৫ জানুয়ারি নাসরিন সুলতানা তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আরাফাত সানীকে গ্রেপ্তার করা হয়।