নৃপেন্দ্রনাথ রায় ।।

আগামী জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার বিকেলে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠককালে এ কথা বলেন তিনি।

এরপর তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে বৈঠককালে জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে নেতাদের প্রতি নির্দেশনা দেন।

কার্যালয়ের বাইরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম সাংবাদিকদের এ বিষয়গুলো জানিয়েছেন।

আজ কার্যালয়ে আসার পাশাপাশি একই সঙ্গে কার্যালয়ের পাশে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের নামে কেনা ভবনও পরিদর্শন করেন তিনি। এর আগে ২০১৪ সালের ৭ নভেম্বর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এসেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

বৈঠকের আগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘সরকারের তিন বছর পার হয়েছে, আমরা চার বছরে পা রেখেছি। সামনে আরও কঠিন সময় মোকাবিলা করতে হবে। তবে সবাইকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সততা নিয়ে কাজ করতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি দলের সবাইকে মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে চলতে হবে, মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করতে হবে। দেশ ও মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করতে হবে। আমি চাই সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে আপনারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে মানুষের সেবা করা।’

তিনি আরো বলেন, মানুষকে একটা জিনিস জানাতে হবে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি ক্ষমতায় এলে লুটপাট হয়, হাওয়া ভবন খোলে। মানুষ খুন, সন্ত্রাস, লুটপাট ছাড়া বিএনপি আর কিছুই দিতে পারে না। মানুষকে এটাও বলতে হবে, সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে দেশের উন্নতি হয় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে আমরা ইশতেহারে যা বলেছিল কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশিই করেছি। এখন সামনে ইলেকশন। তার জন্য ইশতেহার ঠিক করব। সেটা এখনই ঠিক করতে হবে।

কার্যালয়ে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে দলীয় কার্যালয়ে এসেছি। জনস্বার্থেই কম আসা হয়। পার্টির কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু অনেকদিন এখানে আসি না। মনটা চাচ্ছিল এখানে আসি। তাই চলে এসেছি।

এরপর দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ এবং উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।