ফারুক আহমদ ।।
১৯৫০-এর দশক থেকে ইংল্যান্ডে পূর্ব বাংলার বাঙালিদের রাজনীতির সূতিকাগার ছিল আবদুল মান্নান ছানু মিয়ার বাসভবন ২৯ সেন্ট মেরি অ্যাবোটস্ টেরাস এবং তারই মালিকানাধী ২৭৫ ওল্ড ব্রম্পটন রোড লন্ডন ঠিকানায় অবস্থিত ‘গ্রিন মাস্ক রেস্তোরাঁ’। ১৯৬০-এর দশকে এটির সাথে যোগ হয় আরেকটি নাম: ‘ইস্ট পাকিস্তান হাউস’। ‘ইস্ট পাকিস্তান হাউস’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বিলাতবাসী মেহনতি বাঙালিদের শ্রমে-ঘামে অর্জিত অর্থ দিয়ে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানি গরিব ছাত্রদের বিনা পয়সায় থাকা-খাওয়া এবং লেখাপড়া করার সুবিধার জন্য। একই সাথে ভবনটি ছিল তৎকালীন প্রগতিশীল পাকিস্তানি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৭১ সালে ভবনটি ‘বাংলাদেশ ভবন’ নাম ধারণ করে। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালের ১৯ আগস্ট বাঙালি কমিউনিটির পক্ষে হাউসটি লন্ডনস্থ বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোহাম্মদ সুলতানের কাছে হস্তান্তর করেন ‘বাংলাদেশ ভবন’-এর (ইস্ট পাকিস্তান হাউস) অন্যতম ট্রাস্টি হরমুজ আলী।

বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দেয়ার পর ভবনটি পরিচালনার জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন করে চ্যারাটি রেজিষ্ট্রেশন করা হয়। তখন এটির পরিচালনা বোর্ডে ছিল বাংলাদেশ হাইকমিশন, সোনালী ব্যাংক, লন্ডন শাখা এবং ইজলিংটন কাউন্সিল। বাংলাদেশ হাইকমিশনের মতে, ভবনটি ১৯৭৮ সালের ১৪ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশি ছাত্রদের হোস্টেল হিসেবে ব্যবহƒত হয়। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ সরকারকে উপহার দেয়ার পর থেকেই বলা যায় এটি একটি পরিত্যক্ত অথবা অরক্ষিত সম্পত্তিতে পরিণত হতে থাকে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে কাজ করার জন্য গঠিত ‘বাংলাদেশ মহিলা সমিতি’ই ছিল তখন লন্ডনে বাংলাদেশি মহিলাদের একমাত্র প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন। নারীনেত্রী জেবুন্নিসা বখসের পরিচালনায় সংগঠনটি ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত নানা প্রতিকূলতার মধ্যেদিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। ১৯৭৮ সালে লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হয়ে আসেন এ. আর. সামসুদ্দোহা ওরফে মিনু দোহা। তখন শেফিল্ডের এস. এ. রসুল ও অবাঙালি ব্যবসায়ী সাদরি ইস্পাহানির অনুরোধে সামসোদ্দোহা বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ব্যবহারের জন্য ভবনটি ছেড়ে দিতে রাজি হন। ১৯৮০ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমান সস্ত্রীক লন্ডন আসবেন বিধায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া অতি দ্রুত সম্পন্ন হয়। ভবনটি তখন ব্যবহারের অনুপোযোগী থাকায় হাইকমিশন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে ব্যবহারোপযোগী করার জন্য মহিলা সমিতিকে আটারো হাজার পাউন্ড অনুদান দেয়। সেই অল্প অনুদান দিয়ে তখন পুরো বাড়িটির মেরামত করা সম্ভব ছিল না। মহিলা সমিতি ভবনটির কিছু অংশ মেরামত করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে। এভাবে দীর্ঘকাল থাকার ফলে ভবনটিতে ফাটল ধরে বিপজ্জনক আকার ধারণ করে। তখন ‘বাংলাদেশ মহিলা সমিতি’ এটি মেরামতের জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কাছে ফান্ডের আবেদন করলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাড়িটি মেরামতের পুরো খরচের ৮০% ফান্ড দেয়ার প্রতিশ্রুতির দেয়। তবে সাথে শর্ত জুড়ে দেয় যে, ভবনটিতে সমিতি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে এমন নিশ্চয়তার লিখিত প্রমাণ দিতে পারলে অথবা ন্যূনতম দুই বা তিন বছরের লিজ দেখাতে পারলে তবেই অনুদান দেয়া হবে। একই সময় মহিলা সমিতি গ্রেটার লন্ডন কাউন্সিল (জিএলসি) থেকেও ভবনটি মেরামতের জন্য ২১ হাজার পাউন্ড অনুদান লাভের আশ্বাস পায়। তখন বাংলাদেশের হাইকমিশনার ছিলেন রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া বিএনপি নেতা ডাক্তার এ. এফ. এম. ইউসুফ। তিনি এ ব্যাপারে মহিলা সমিতিকে কোনো ধরনের লিজ, তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা বা কোনো প্রমাণপত্র দিতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেন। সেই সাথে সমিতির কর্মকর্তাদের এই ভবনটির ওপর এতো লোভ কেন এ জাতীয় অপমানজনক কথাবার্তাও বলেন। এমতাবস্থায় ১৯৯২ সালে ইজলিংটন কাউন্সিল ভবনটিকে ব্যবহার ও বসবাসের সম্পূর্র্ণ অনুপযোগী বলে ঘোষণা করে এবং এটিকে দ্রুত মেরামতের আবারও নির্দেশ দেয়। কিন্তু তৎকালীন বিএনপি সরকার রহস্যজনকভাবে ভবনটি মেরামত করা থেকে বিরত থাকে। এমতাবস্থায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে সেই ফান্ড আর মহিলা সমিতির পক্ষে পাওয়া সম্ভব হয়নি বিধায় সমিতি ১৯৯৩ সালে ভবনটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

উলে¬খ্য যে, ভবনটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ট্রাস্ট গঠন করে চ্যারাটি রেজিস্ট্রেশন করা হলেও ট্রাস্ট আসলে কখনো কোনো কাজ করেনি। ইজলিংটন কাউন্সিল বারবার বাড়িটি মেরামতের তাগিদ দিলেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বিধায় কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ নামমাত্র মূল্যে ভবনটি অধিগ্রহণের হুমকি প্রদান করে।

বাংলাদেশ মহিলা সমিতি চলে যাওয়ার পর বাড়িটি খালি থাকায় একদল উদ্বাস্তু সুযোগ বুঝে এটি দখল করে নেয়। সেই থেকে দীর্ঘদিন এটির দখল বাংলাদেশ সরকারের হাতে ছিল না। অনেক দেন-দরবারের পরে কোর্টের রায়ের মাধ্যমে ১৯৯৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বাড়িটি দখলমুক্ত হয়। অথচ এর পরেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক ভবনটি রক্ষার কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে একুশ বছর পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। যুক্তরাজ্যে হাইকমিশনার হয়ে আসেন মাহমুদ আলী। জানা যায়, তখন ভবনটি মেরামতের ব্যাপারে পররাষ্ট্র্রমন্ত্রীর আবদুস সামাদ আজাদের সাথে হাইকমিশনের বেশ কয়েক বার আলোচনা হয়। ১৯৯৭-১৯৯৯ সালের মধ্যে ভবনটি মেরামত এবং ব্যবহার উপযোগী করার জন্য পররাষ্ট্র্রমন্ত্রনালয় এবং পররাষ্ট্র্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের সহযোগিতা চেয়েও ব্যর্থ হয় হাইকমিশন। তখন হাইকমিশন সমস্যাটি কীভাবে সমাধান করা যায় এ নিয়ে ব্যারিস্টার আজমল হোসেন ও ব্যারিস্টার আনতুল ফাতেহ-এর সাথে আইনি পরামর্শ গ্রহণ করে। তাদের পরামর্শ মতো এক পর্যায়ে স্পন্সরশিপ নিয়ে এটি মেরামতের প্রচেষ্টা চালানো হলে তা কার্যকরী হয়নি। এমতাবস্থায় ১৯৯৯ সালে হাইকমিশনার মাহমুদ আলী যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দু’একজন নেতার যোগসাজসে বিলাতের বাঙালি কমিউনিটি তো বটে এমনকি যারা দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি ব্যবহার করে আসছিলেন সেই বাংলাদেশ মহিলা সমিতিকেও না জানিয়ে ১৩ কক্ষের চার তলাবিশিষ্ট বিরাট বাড়িটি বাজার মূল্য থেকে অনেক কম দামে অর্থাৎ ৪৮৫,০০০ পাউন্ডে বিক্রি করে দেয়। খবরটি বাঙালি কমিউনিটির মধ্যে জানাজানি হয়ে গেলে স্থানীয় পত্রপত্রিকায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। প্রতিবাদে অংশ নেয় বিএনপি, কমিউনিস্ট পার্টি ও জাসদসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল। শুধু রহস্যজনকভাবে নীরব থাকে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ। তখন সান্ত্বনা হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাঙালি-সম্প্রদায়ের ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চাসহ আরো বিভিন্ন কাজের আইডিয়া স্টোর হিসেবে টাওয়ার হ্যামলেটস বারার অন্তর্গত বো এলাকায় একটি বাড়ি কেনা হচ্ছে। ২০০০ সালে পূর্ব লন্ডনের বো এলাকার কোবর্ন রোডস্থ ৪৪ নং বাড়িটি (৪৪ ঈড়নড়ৎহ জড়ধফ, খড়হফড়হ ঊ৩) ৩৪০,০০০ পাউন্ডে কেনা হয়।

২০০১ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ রেহানাকে সাথে নিয়ে নতুন ভবনটির আনুষ্ঠনিক উদ্বোধন করেন। বলা হয়, ভবনটিতে প্রবাসী বাংলাদেশি ও পরবর্তী প্রজšে§র জন্য বাংলাদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ইতিহাস, সাহিত্য, চিত্রকলা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর রচিত পুস্তক সংবলিত একটি লাইব্রেরি থাকবে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, নাটক ও ডকুমেন্টারি ফিল্ম ইত্যাদির একটি ভিডিও লাইব্রেরিও থাকবে। যে কেউ বিনামূল্যে সেগুলো ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। কমিউনিটির ছোটখাটো সভা, সেমিনারের জন্য ভবনটির স্টুডিও কক্ষ বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। আরো বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ভবন’-এর চ্যারাটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৯৮৬ সালে প্রণীত ডিক্লারেশন অব ট্রাস্ট অনুযায়ী চার সদস্যবিশিষ্ট একটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজ রয়েছেন এবং এ ব্যাপারে তারা পুরোদমে কাজ করছেন। ট্রাস্টিরা মাঝে বাংলাদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ইতিহাস ইত্যাদি বিষয়ের ওপর ওয়ার্কশপ, সেমিনার ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করবেন। এছাড়া সেন্টারে খণ্ডকালীন বয়স্ক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষারও ব্যবস্থা থাকবে।

উলেখ্য, যুক্তরাজ্যে কোনো বাড়ি কেনার আগে সাধারণ নিয়মানুযায়ী খোঁজখবর নিয়ে দেখা হয় যে জন্য বাড়িটি কেনা হচ্ছে সেই ব্যাপারে লোক্যাল কাউন্সিলের অনুমতি আছে কিনা। জানা যায়, হাইকমিশন কোনো খোঁজখবর না নিয়েই বাড়িটি ক্রয় করেছিল বিধায় পরবর্তীকালে উলি¬খিত কার্যক্রম চালানোর অনুমোদন লাভে তারা ব্যর্থ হয়।

২০০১ সালের ১৯ এপ্রিল হাইকমিশনার হয়ে আসেন গিয়াস উদ্দিন। তিনিও ভবনটি চালু করার ব্যাপারে অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু কার্যক্রম চালু করার আগেই নির্বাচনে পরাজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হয় আওয়ামী লীগ সরকারকে। ফলে তাকেও ২০০২ সালের ১৫ জানুয়ারি বিদায় নিতে হয়। এর আগে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট। ২০০২ সালের ২৪ জানুয়ারি দলীয় বিবেচনায় লন্ডনে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন বিএনপি নেতা শেখ রাজ্জাক আলী। তখন টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিল বাংলাদেশ হাইকমিশনকে প্রস্তাব দেয় যে, তারা পাবলিকের ব্যবহারোপযোগী কয়েকটি বাড়ি বিক্রি করবে। তখনকার পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তিনটি বাড়ি দেখে লাইম হাউস এলাকার কমার্শিয়াল রোডে অবস্থিত লাইম হাউস লাইব্রেরিটি প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ ভবন’ স্থাপনের জন্য পছন্দ করে। বাড়িটি কেনার জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশন উদ্যোগ নিয়ে সাত লাখ পঞ্চাশ হাজার পাউন্ড দাম দেয়ার প্রস্তাবও করে। তারপর উদ্যোগটি কোনো রহস্যজনক কারণে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।

২০০৩ সালের ১১ ডিসেম্বর হাইকমিশনার হয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এ. এইচ. এম. মুফাজ্জল করিম। তখন দেশে জামায়াত-বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের দলীয়করণ আর লুটপাটের রাজত্ব চলছে। হাইকমিশনার হয়ে এসে সম্ভবত তারও ধারণা হয় যে, আওয়ামী লীগ সরকারের হাইকমিশনার যদি ঐতিহাসিক বাংলাদেশ ভবনটি বিক্রি করে সাঙ্গপাঙ্গদের মাধ্যমে প্রায় অর্ধেক টাকা হাতিয়ে নিতে পারেন এবং এজন্য প্রবাসীরা তাদের কিছুই করতে পারেনি, তাহলে ভবন প্রতিষ্ঠার জন্য কেনা কোবর্ন রোডস্থ ৪৪ নং খালি বাড়ি, যে বাড়ি সম্পর্কে প্রবাসীদের তেমন কোনো ধারণা নেই, সেটা বিক্রি করে পুরো টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করে দিয়ে বরং তার প্রিয়ভাজন হতে আপত্তি কোথায়। সম্ভবত এই বোধ থেকে তিনি সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাড়ি বিক্রির পুরো টাকাটি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করে দেন বলে জানা যায়। অবসান ঘটে ‘বাংলাদেশ ভবন’ নিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন আর কলমবাজির। তখন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ কোনো ধরনের আন্দোলন করার প্রয়োজন মনে করেনি হয়তো এজন্য যে বাড়িটি বিক্রয় করে দিয়ে তারাই প্রথমে সমস্যার সৃষ্টি করেছিল। জাতীয় পার্টি, জাসদ, কমিউনিস্ট পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ইত্যাদি নামের রাজনৈতিক সংগঠনগুলো সম্ভবত এখনো (২০০৯ সালে) খবরটি জানে না। অথবা জানলেও এতে তাদের কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত নেই বিধায় তারা কোনো ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজন মনে করেনি।

#
লেখাটি লেখকের “বিলাতে বাংলার রাজনীতি” গ্রন্থ থেকে সঙ্কলিত