নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না জামিনে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। রবিবার (১৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জস্থ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

মাহমুদুর রহমান মান্নার মুক্তির সংবাদ নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির। তিনি দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, আদালত থেকে জামিনের কাগজ আসার পর রবিবার সন্ধ্যায় মাহমুদুর রহমান মান্নাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা ও অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে মান্নার কথোপকথন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে ২০১৫ সালে। ওই বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বনানীর একটি বাসা থেকে নিঁখোজ হন তিনি। তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করে যে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে একটি দল মান্নাকে তুলে নিয়ে গেছে। যদিও গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে মান্নাকে আটক করার কথা শুরুতে অস্বীকার করা হয়। তবে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুলশান থানার পুলিশের হাতে মান্নাকে হস্তান্তর করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)। সেসময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিদ্রোহে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মান্নার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৩১ ধারায় গুলশান থানায় মামলা করে পুলিশ। পরদিন (২৫ ফেব্রুয়ারি) ওই মামলায় আদালতে হাজির করে পুলিশ তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়। সেই রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়।

তখন থেকেই কারাবন্দি ছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। কারাগারে থাকা অবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার জন‌্য কয়েক দফায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন‌্য গত ৫ ডিসেম্বর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে তাকে কেরাণীগঞ্জে আনা হয়। গত ২৮ নভেম্বর উল্লেখিত দুই মামলায় মান্নাকে জামিন দেন সুপ্রিম কোর্ট। জামিনের ওই আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পর রবিবার সন্ধ্যায় মুক্তি দেওয়া হলো মাহমুদুর রহমান মান্নাকে।