নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে মতবিনিময় করতে রবিবার ( ১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে বঙ্গভবনে যাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
ইতোমধ্যে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের তালিকা বঙ্গভবনে জমা দিয়েছে বিএনপি। প্রতিনিধি দলেন নেতৃত্ব দেবেন খালেদা জিয়া।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া ছাড়াও বিএনপির প্রতিনিধি দলের তালিকায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নাম রয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, রবিবার বিকেল ৩টায় গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে বের হয়ে প্রথমে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাবেন খালেদা জিয়া। সেখানে অপেক্ষমান প্রতিনিধি দলের বাকি সদস্যদের নিয়ে একত্রে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।
প্রতিনিধি দলে কারা থাকছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, স্থায়ী কমিটির বাইরে কেউই থাকছেন না।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়েই রবিবার থেকে এ সংলাপ শুরু হচ্ছে। ২০১২ সালে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ‘সার্চ কমিটির’মাধ্যমে যেভাবে ইসি গঠন করা হয়েছিল, এবারো একই পদক্ষেপ নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ।
গত ১৮ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন ইসি ও সার্চ কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে তার দলের ১৩ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন, যার মূল বিষয় ছিল ‘সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দলের’মতৈক্যের ভিত্তিতে নতুন ইসি গঠন করা।
এরপর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গত ৬ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে গিয়ে খালেদা জিয়ার ওই প্রস্তাবের বিস্তারিত কপি পৌঁছে দেন।
এরপর গত ১২ ডিসেম্বর বঙ্গভবন থেকে চিঠি পাঠিয়ে সংলাপের জন্য বিএনপির কাছে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নাম চাওয়া হয়। এতে বলা হয়-‘নির্বাচন কমিশন গঠনে মাহামান্য রাষ্ট্রপতি আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। সেই লক্ষ্যে আগামী ১৮ ডিসেম্বর বিকেলে বঙ্গভবনে আপনার দলের নেতৃবৃন্দের সাথে মত-বিনিময়ের সানুগ্রহ সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি।’
প্রসঙ্গত, আগামী বছর (২০১৭ সাল) ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে।