চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ৫৫ জন স্কুলছাত্রের মাথার চুল কেটে দিয়েছেন আলমগীর নামের এক শিক্ষক। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে আরো তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার (০৬ ডিসেম্বর) ফটিকছড়ি উপজেলার হেয়াকো বনানী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনার পর বুধবার (০৭ ডিসেম্বর) এক আদেশে শিক্ষক আলমগীরকে বরখাস্ত করেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ৫৫ জন ছাত্রকে লম্বা চুল রাখার অপরাধে একটি কক্ষে একত্রিত করে শিক্ষক আলমগীর, তপন দাশ, শহীদুল্লাহ ও তৌহিদুল আলম। এরপর বাজারের নাপিতের দোকান থেকে কাঁচি এনে শিক্ষক আলমগীর অন্যান্য শিক্ষকের সহায়তায় ৫৫ জন ছাত্রের মাথার চুল এলোপাতাড়ি করে কেটে দেয়।
এ ঘটনার পর ছাত্ররা বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে শিক্ষকরা তা ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকসহ গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচার দাবি করেন। অভিযোগ পেয়ে বুধবার ফটিকছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাবুল চন্দ্র নাথ বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। এরপর তিনি শিক্ষক আলমগীরকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মির্জা বখতেয়ার বকুল বলেন, বিষয়টি খুবই আপত্তিকর। ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষকদেরকে কারন দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার পরিচালনা কমিটির মিটিংয়ে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাবুল চন্দ্র নাথ বলেন, বিনা কারণে বিশ্রিভাবে ছাত্রদের চুল কাটার অভিযোগে আলমগীর নামে এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত অপর শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।